1. m.a.roufekhc1@gmail.com : alokitokha :
দীঘিনালায় সেনাবাহিনীর মানবিক উদ্যোগ, স্বাবলম্বীর লক্ষ্যে পাহাড়ি পরিবারগুলোর মাঝে ছাগল বিতরণ - আলোকিত খাগড়াছড়ি

দীঘিনালায় সেনাবাহিনীর মানবিক উদ্যোগ, স্বাবলম্বীর লক্ষ্যে পাহাড়ি পরিবারগুলোর মাঝে ছাগল বিতরণ

  • প্রকাশিতঃ বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৩৩ বার পড়া হয়েছে

​নিজস্ব প্রতিনিধি:
দুর্গম পাহাড়ি জনপদের অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ সৃষ্টিতে মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এরই অংশ হিসেবে দীঘিনালা উপজেলার দুর্গম রাম রতন কারবারি পাড়ার সাতটি অসহায় পাহাড়ি পরিবারের মাঝে গবাদিপশু হিসেবে ছাগল বিতরণ করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগ সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোর জীবিকায় এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচন করেছে।

​বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দীঘিনালা জোনের জোন অধিনায়কের নির্দেশনায় ও আলমগীর টিলা আর্মি ক্যাম্পের তত্ত্বাবধানে এই ছাগল বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এ সময় সাতটি পরিবারের প্রত্যেককে দুটি করে মোট ১৪টি ছাগল দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে দীঘিনালা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ভেটেরিনারি চিকিৎসক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, হেডম্যান, কারবারি, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং উপকারভোগী পরিবারের সদস্যসহ প্রায় ২৫ জন উপস্থিত ছিলেন।

দুর্গম পাহাড়ি এলাকার অনেক দরিদ্র পরিবারের জন্য নিয়মিত আয়ের সুযোগ তৈরি করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সীমিত আর্থিক সামর্থ্য, যোগাযোগব্যবস্থার অসুবিধা এবং কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক পরিবারকে জীবিকা নির্বাহে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করতে হয়। এমন বাস্তবতায় গবাদিপশু বিতরণের মতো উদ্যোগ পরিবারগুলোর বিকল্প আয়ের উৎস তৈরিতে অত্যন্ত সহায়ক হতে পারে।

​ছাগল পালন তুলনামূলকভাবে কম জায়গায় এবং সীমিত পুঁজি দিয়ে শুরু করা সম্ভব। সঠিক পরিচর্যা, নিয়মিত টিকা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে ছাগল বড় হওয়ার পর বিক্রি করে আয় করা সম্ভব। পাশাপাশি ছাগলের বংশবৃদ্ধির মাধ্যমে ধীরে ধীরে গবাদিপশুর সংখ্যা বাড়ানো এবং ভবিষ্যতে স্থায়ী সম্পদ গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয় মেটানো, শিশুদের শিক্ষা ও চিকিৎসার খরচ জোগানো এবং আর্থিক সংকট মোকাবিলা সহজ হবে।

সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগ শুধু তাৎক্ষণিক সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং উপকারভোগী পরিবারগুলোকে দীর্ঘমেয়াদে স্বাবলম্বী হওয়ার পথে এগিয়ে নেওয়ার একটি সুদূরপ্রসারী প্রচেষ্টা। বিশেষ করে দুর্গম পাহাড়ি জনপদে বসবাসরত সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে জীবিকার সুযোগ সৃষ্টির এ ধরনের কার্যক্রম স্থানীয় পর্যায়ে অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

​ছাগল পেয়ে দীঘিনালা জোনের জোন অধিনায়কের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন উপকারভোগী পরিবারগুলো। একই সঙ্গে তাঁদের দুর্দিনে পাশে দাঁড়িয়ে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও দীঘিনালা জোনের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান তাঁরা।

​স্থানীয়দের মতে, দুর্গম এলাকার মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নে এ ধরনের মানবিক সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গবাদিপশু বিতরণের পাশাপাশি প্রাণিসম্পদ বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত পরিচর্যা ও রোগ প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে পরিবারগুলো দীর্ঘমেয়াদে আরও বেশি উপকৃত হবে।

​দেশের পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে নিরাপত্তা কার্যক্রমের পাশাপাশি এ ধরনের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দীঘিনালা জোনের এই উদ্যোগ দুর্গম এলাকার দরিদ্র মানুষের জীবনে স্বাবলম্বিতার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করার পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ